ক্ষেত জুড়ে হলুদের সমারোহ, কৃষকের মুখে হাসি

December 31, 2017 at 11:39 am

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক: মাঠের পর মাঠ জুড়ে শুধুই হলুদের সমারোহ। মাঠ জুড়ে গুন গুন করছে মৌমাছি। এমনই দৃশ্য চোখে পড়বে নীলফামারীতে। চলতি রবি মৌসুমে জেলায় রেকর্ড পরিমাণ সরিষার আবাদ হয়েছে। সরিষা চাষ লাভজনক হওয়ায় এ ফসল আবাদে মনোযোগ দিয়েছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন তারা।

সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার  এক হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।  তবে আবাদ হয়েছে দুই হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে। উফসি, টলি-৭ ও সম্পদ জাতের সরিষা এসব জমিতে আবাদ হয়েছে।

কম খরচে বেশি লাভের আশায় কৃষকরা এবার বোরো ধানের জমিতে আগাম জাতের ও অধিক ফলনশীল সরিষার চাষ করছেন।

নীলফামারী সদরের রামনগর ইউনিয়নের বিশমুড়ি এলাকার কৃষক আশরাফ আলী বলেন, কয়েক দফা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা জমিতে আগাম জাতের সরিষার আবাদ করছেন। ধানের দাম কমে যাওয়ায় প্রতি বছরই তাদের লোকশান হচ্ছে। তাই বিকল্প ফসল হিসেবে তারা সরিষা চাষে প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

 

একই এলাকার (ইউনিয়নের) বাবুল হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন। সরিষা তুলে নিয়ে ওই জমিতে বোরো ধান লাগাবেন। সরিষার থেকে উপার্জিত আয় বোরো ধান চাষাবাদে সহায়ক হবে।

টুপামারী ইউনিয়নের চৌধুরি পাড়া গ্রামের খোকন মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সরিষা চাষে সার কম দিতে হয়। সেচ, কীটনাশক ও নিড়ানি লাগে না। একেবারই খরচ কম ও স্বল্প সময়ে এ ফসল ঘরে তোলা যায়। বর্তমান বাজারে দামও ভালো।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। দেশে কয়েক দফা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকরা সরিষা চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার আবাদ থেকে কৃষকরা বাড়তি মুনাফা আয় করতে পারবেন। চলতি বছর বিঘা প্রতি সরিষার উৎপাদন ধরা হয়েছে ছয় মণ।

এদিকে, সরিষার রোগ বালাই দমনে মাঠ পর্যায়ে উপ-কৃষি কর্মকর্তা চাষিদের রোগ বালাই দমনে নানা পরামর্শ দিচ্ছেন।

 

বাংলা ট্রিবিউন

Print