ফোর-জিতে ‘২০ মেগা’ গতি: গ্রাহকের জয় না আক্ষেপ?

December 29, 2017 at 12:10 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন বছরের উপহার হিসেবে আসছে ফোর-জি। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, এর গতি হবে ২০ এমবিপিএস (মেগাবাইট পার সেকেন্ড)।তার এমন ঘোষণায় নড়েচড়ে বসেছেন অনেকেই। মত-দ্বিমতও দেখা দিয়েছে। অনেকে বলছেন, বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে এই গতি চালু করা সম্ভব নয়। কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, ফোর-জিতে ২০ এমবিপিএস গতি শেষ পর্যন্ত না আক্ষেপে পরিণত হয়!

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে থ্রিজি চালুর সময় এর ন্যূনতম গতি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। এই সেবার শুরুতে মোবাইলফোন অপারেটরগুলো ইন্টারনেট প্যাকেজ বিক্রির সময় নিজেদের দেওয়া গতি উল্লেখ করলেও পরে তা বন্ধ করে দেয়। অন্যদিকে, দেশে ব্রডব্যান্ড (উচ্চগতি) ইন্টারনেটের গতি বেঁধে দেওয়া হয়েছে ৫ এমবিপিএস।

জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা-২০০৯ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এ পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড নীতিমালায় ৩ বার এর গতি পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রথমবার ব্রডব্যান্ডের ন্যূনতম গতি ছিল ১২৮ কেবিপিএস। দ্বিতীয়বার গতি নির্ধারণ করা হয় ১ এমবিপিএস। তৃতীয়বার করা হয়েছে ৫ এমবিপিএস। আর বলা হয়েছে, ঘোষিত গতির অন্তত ৭০ শতাংশ দিতে সক্ষম হলে তাকে ব্রডব্যান্ড বলা যাবে। এরচেয়ে কম গতি হলে তাকে ন্যারোব্যান্ড ইন্টারনেট বলা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্রডব্যান্ডেই এখনও ন্যূনতম গতি নিশ্চিত করা যায়নি। এখানে ফোর-জিতে ২০ এমবিপিএস গতি শেষ পর্যন্ত আক্ষেপে পরিণত হতে পারে।  তারা  বলছেন, দেশের মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর যে ঘনত্ব, অবকাঠামো, তরঙ্গ, নেট নিরপেক্ষতা রয়েছে; তাতে ফোর-জির উল্লিখিত গতি অবাস্তবই হবে।

জানা গেছে, ফোর-জির গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড গতি ১৬ এমবিপিএস।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ নভেম্বর সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, ‘আগামী জানুয়ারি মাস থেকে দেশবাসী যেন ফোরজি সেবা পায়, সে বিষয়ে আমরা উদ্যোগী হয়েছি। ফোরজি সেবায় প্রাথমিকভাবে ইন্টারনেটের গতি থাকবে ২০ এমবিপিএস।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে (বিটিআরসির হিসাব মতে) দেশে মোট মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা (সচল সিম হিসেবে) ১৪ কোটি ৩১ লাখ ৬ হাজার। অন্যদিকে, জিএসএম (গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশন্স) স্টাডি বলছে, দেশের মোট মোবাইলফোন ব্যবহারকারীর মধ্যে ১৭ শতাংশ ব্যবহারকারী থ্রিজি ব্যবহার করেন। সেই হিসেবে বর্তমানে দেশে থ্রিজি ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার ২০ জন।

জানা গেছে, থ্রিজিতে ৩২ হাজার কোটি বিনিয়োগ করে অপারেটরগুলোর আয় করেছে ৬ হাজার কোটি টাকা।
জানতে চাইলে মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের মহাসচিব টিআইএম নূরুল কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডের চেয়েও বেশি ‘গতি’ ঘোষণা করা হয়েছে। এটা ‘আনরিয়ালিস্টিক।’ সারাদেশেই আমরা এখনও থ্রিজি নিশ্চিত করতে পারিনি। এর নির্ধারিত কোনও গতিও নেই। ফলে বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে এটা (ফোর-জির ২০ মেগা গতি) সম্ভব নয়।’’ গতির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

 

বাংলাট্রিবিউন

Print