তানোরে আলুর বীজ নিয়ে হিমসিম কৃষক

November 27, 2017 at 7:29 pm

টিপু সুলতান:
তানোরে কৃষকের আলু বীজ ৬টাকা কেজি এবং কোম্পানির আলু বীজ ৫০টাকা কেজি। নিজের তৈরি বীজের দাম নেয় কিন্তু বিভিন্ন কোম্পানীর বীজের দাম নিয়ে হিমসিম খাচ্ছে কৃষকরা। অপর দিকে ষ্টোর কর্তৃপক্ষের তৈরি সিন্ডিকেট ও ভাড়া বেশী হওয়ায় লোকসান হচ্ছে কৃষকদের। ষ্টোরে রাখা আলু’র দাম না পাওয়ায় পুজি হারিয়ে সর্বশান্ত হয়েছেন এলাকার শত শত কৃষক। তার পারও থেমে নেই কৃষকরা। লোকসান পুশিয়ে নিতে স্বপ্ন দেখচ্ছে কৃষকরা।

তানোর উপজেলা কৃষ্ণপুর গ্রামের আদর্শ আলু চাষী আলহাজ আব্দুর রাজ্জাক গত শুক্রবার সকালে কৃষ্ণপুর মাঠে তার নিজ ১’১০বিঘা জমিতে আলু লাগানো শুরু করেছেন। তিনি সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, গত বছর ১শ’ ২৭বিঘা জমিতে আলু চাষ করে লোকসান গুনতে হয়েছে। এবছর ১১০বিঘা জমিতে ন্যাশনাল সীড, ব্র্যাক, কৃষান বোটানী ও এসিআই কোম্পানির আলু বীজ লাগানোর প্রস্তুতি নিয়ে আলু লাগানো শুরু করেছি। কৃষকদের তৈরি আলু বীজের চেয়ে বিভিন্ন কোম্পানীর বীজের দাম অনেক বেশি।

কৃষকরা বলছেন, এক দিকে আলু’র দাম কম অন্য দিকে রোপা আমনে ফলন কম হওয়ায় কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। চাষাবাদে নির্ভরশীল এ অঞ্চলের কৃষকরা সেই লোকসান মাথায় নিয়ে আগামীতে লাভবান হওয়ার আশায় আলু (রোপন) লাগানো শুরু করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ষ্টোর কর্তৃপক্ষের তৈরি এক শ্রেনীর দালাল সিন্ডিকেট চক্র কৃষকদেরকে বেশী ফলনের লোভ দেখিয়ে কৃষকের তৈরি বীজ রোপনের পরিবর্তে কোম্পানির বীজ কিনে রোপন করতে কৃষকদেরকে বিভিন্ন ভাবে উদ্বুদ্ধ করছেন। ফলে ষ্টোর কর্তৃপক্ষ কৃষকরা বেশী দামে আলু বীজ দিয়ে ফাঁকা চেক ও ষ্ট্যাম্পে কৃষকদের স্বাক্ষর নিয়ে চড়া সুদে লোন দিয়ে জিম্মি করে রাখছেন কৃষকদের।

তানোর পৌর এলাকার ধানতৈড় গ্রামের আদর্শ আলু চাষী আবু কালাম সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, আলু লাগানোর জন্য জমি তৈরি করে কাশেম বাজারস্থ্য আমান গ্রুপের ষ্টোরে রাখা আমার তৈরি আলু বীজ নিতে অর্ডার দেয়ার ১০দিন পর বীজ পেয়েছি। কিন্তু কোম্পানির বীজ নিলে সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যেত। ফলে আমি আলূ রোপন করার ক্ষেত্রে ১০দিন পিছিয়ে গেলাম।

তিনি বলেন, আলু চাষের শুরুতেই এটি লোকসান হওয়ার একটি প্রথম ধাক্কা। আলু চাষীদের এভাবেই পদে পদে লোকসানের ধাক্কা সামলিয়ে আলু চাষ করতে হচ্ছে। কৃষকের তৈরি আলু বীজ বিক্রি হচ্ছে ৬টাকা কেজি কিন্তু যেকোন কোম্পানির বীজ হলেই প্রতি কেজি বীজ ৫০টাকা।

তানোর পৌর এলাকার ধান তৈড় গ্রামের আদর্শ আলু চাষী আশরাফুল আলম সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, গত বছরের লোকসান পুশিয়ে নিতে এবছর আবারো কৃষকরা মাটিতে পুতে রাখছেন তাদের স্বপ্ন। তানোরে ষ্টোরের সংখ্যা বাড়লেও কমছেনা ষ্টোর ভাড়া। তুলনা মুলক ভাবে ষ্টোর ভাড়া একটু বেশী হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ছেন কৃষকরা।

গত বছর বিঘা প্রতি খচর হয়েছে ৩০হাজার টাকা থেকে ৩২হাজার টাকা, ফলন হয়েছে (৯০ কেজির প্রতি বস্তা) ৪৫ থেকে ৫০বস্তা, জমি থেকেই প্রতি বস্তা আলু বিক্রি হয়েছে ১হাজার টাকা থেকে ১২০০ টাকায়, জমি থেকে বিক্রি করে কৃষকের লাভ হয়েছে প্রতি বিঘায় ১৫হাজার টাকা থেকে ২০হাজার টাকা, কিন্তু ওই আলু ষ্টোরে রেখে বর্তমানে কৃষকরা বিক্রি করছেন ৬০০ টাকা থেকে ৬২০টাকায়।

আলু চাষে প্রতি বস্তায় কৃষকের খরচ হয়েছে ৬৪০টাকা এবং ষ্টোর ভাড়া বাবদ ৩৬৫টাকা এবং খালি বস্তা বাবদ ৮০টাকা ও ক্যারিং খরচ ৩০টাকা, ষ্টোরে রাখতে প্রতি বস্তায় খরচ পড়ছে ৪৭৫টাকা। ষ্টোরে রাখার পর প্রতি বস্তায় মোট খরচ পড়ছে ১হাজার ১১৫টাকা। ষ্টোরে রেখে প্রতি বস্তায় কৃষকের লোকসান হচ্ছে ৪৯৫টাকা।

তানোর পৌর এলাকার চাপড়া গ্রামের আলু চাষী রাজিব সরকার হিরো বলেন, ষ্টোর কর্তৃপক্ষের কাছে জিম্মি হয়ে থাকায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও প্রতিবাদ করতে পারেন না। ফলে লাভবান হচ্ছেন ষ্টোর কর্তৃপক্ষ আর সর্বশান্ত হচ্ছেন কৃষকরা।

তানোর উপজেলা কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, তানোর উপজেলায় ২হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারন করে আলু লাগানো শুরু হয়েছে। ষ্টোর কর্তৃপক্ষের সিন্ডিকেটের বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স/শ

Print