‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সারাবিশ্বে বাংলাদেশ রোল মডেল’

October 13, 2017 at 12:06 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক: দুর্যোগঝুঁকি মোকাবেলায় স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনসাধারণের অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতি সারাবিশ্বে বাংলাদেশকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ‘রোল মডেল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে মন্তব্য করেছে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০১৭ উপলক্ষে এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করে দুর্যোগ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ ১৩ অক্টোবর পালিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ২০১৭’। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘দুর্যোগ সহনীয় আবাস গড়ি, নিরাপদে বাস করি’। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন এ দিবস উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, “দুর্যোগঝুঁকি ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় অবদান রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, যা দেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের ১ জুলাই ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলার কাজে স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) নতুন আঙ্গিকে প্রতিষ্ঠা করেন, যা সদ্য স্বাধীন দেশের দুর্যোগঝুঁকি হ্রাসে একটি অনন্য মাইলফলক ছিল।’

তিনি বলেন, ‘ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। ভূমিকম্প জীবনহানীসহ ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। তাই ভূমিকম্প মোকাবেলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় নিয়মিত প্রচারণাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভূমিকম্প মহড়ার আয়োজন খুবই জরুরি। সরকার এ লক্ষ্যে বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণসহ বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন অত্যাধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম ক্রয় করেছে। ভূমিকম্প মোকাবেলায় নগর স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও বাস্তবায়িত হচ্ছে।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, বেসরকারি সংস্থা, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও স্থানীয় জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে দুর্যোগ সহনশীলতা অর্জনে দ্রুত ও কার্যকর কৌশল গ্রহণে সক্ষম হবে।

দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস কার্যক্রমে কাঠামোগত ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। জনগণ যাতে বিনামূল্যে আবহাওয়ার বার্তা পায় সেজন্য আমরা যে কোনও মোবাইল থেকে ১০৯০ নম্বরে (টোল ফ্রি) ফোন করে আবহাওয়া বার্তা পাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। ভূমিকম্প মোকাবিলায় ইতোমধ্যেই ১৬৯ কোটি টাকার উদ্ধার সামগ্রী কেনা হয়েছে।’

বিল্ডিং কোড অনুসরণ করে ভবন নির্মাণ করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুর্যোগঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রমে আরও বেশি সংখ্যক নগর স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করতে হবে। প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত, শিল্পকারখানা, মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব প্রশিক্ষিত দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০১৭ এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

Print