পুঠিয়ায় নবজাতকসহ প্রসুতির মৃত্যু: ভুয়া ডাক্তার দুই দিনের রিমাণ্ডে

October 12, 2017 at 7:27 pm

মইদুল ইসলাম মধু, পুঠিয়া:

রাজশাহীর পুঠিয়ায় নবজাতকসহ প্রসুতির মৃত্যুর ঘটনায় পলাতক সেই ভুয়া ডাক্তার দুই দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুুর করেছে আদালত। আজ বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ২ দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন আদালত। 

পুঠিয়ায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপরেশন করার সময় ভুল চিকিৎসায় অপারেশন টেবিলে নবজাতকসহ প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘদিন যাবত পলাতক সেই ভুয়া ডাক্তারকে চলতি মাসের ১ অক্টোবর রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাকে ২ অক্টোবর রাজশাহী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমাণ্ডের আবেদন করেন মামলার আইও পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত রাকিবুল হাসান। পরে দুই দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করে আদালত।

বিষয়টি সিল্কসিটি নিজকে নিশ্চিত করেছেন পুঠিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) রাকিবুল হাসান।

সেই ভূয়া ডাক্তার হলেন, নাটোর জেলা সদর এলাকার দক্ষিনপুর মহল্লার বাহাজ উদ্দিন প্রামানিকের ছেলে আবদুল করিম (৫০)।  কিন্তু সে নিজেকে ক্যাপ্টেন (অবঃ) ডা. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম নাম ব্যবহার করে পরিচয় দিতেন।

চলতি বছরের ৯ আগস্ট উপজেলা সদরে অবস্থিত বেসরকারি ক্লিনিক আল-মাহাদি ইসলামি হাসপাতাল নামের ওই ক্লিনিকে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় পেটের ভেতর নবজাতকসহ পান্ন বেগম নামের এক প্রসুতির মৃত্যু হয়। ঘটনার পর নিহত পান্না বেগমের স্বামী বাদী হয়েছে ভূয়া চিকিৎসক, ক্লিনিক মালিক মুনসুর রহমানসহ ৪ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান জানান, ঘটনার পর দীর্ঘদিন যাবৎ আবদুল করিম (জাহাঙ্গীর আলম নাম ব্যবহার করা ভূয়া ডাক্তার) আত্মগোপনে ছিলো সে সব জায়গায় তার ভুয়া নাম ব্যবহার করায় কোন মতেই তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। পরে উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি অতিরিক্ত সোর্স নিয়োগ করে তার আসল পরিচয় বের করে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গত ১ অক্টোবর গভীর রাতে নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার রয়না চকপাড়া গ্রাম তার স্বশুর বাড়ি এলকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

জানা যায়, এসএসসি পাশ করে ১৯৮৫ সালে আবদুল করিম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে চাকুরিতে যুক্ত হন। তার ঠিক এক বছর পরেই তার চাকরি চলে যায়। তারপর থেকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা সদরে অবস্থিত একটি ফার্মেসি দোকানে চাকরি নেন। সেই থেকে তার প্রথম ঔষধের প্রেস্কিপশন হাতে নেয়া।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাকিব জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আঃ করিম ওরুফে জাহাঙ্গীর আলম জানান, ফার্মেসির দোকানে চাকরির সুবাদে সে প্রথম প্রেস্কিপশন হাতে নেয় এবং একসময় সে নিজেই রুগির প্রেস্কিপশন লিখেন। তারপর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ডাক্তারের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন এবং তার কিছুদিন পরেই তিনি নিজেকে এমবিবিএস ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দেন এবং নিজের নাম আঃ করিম পরিবর্তন করে ক্যাপ্টেন (অবঃ) ডা. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম নাম ব্যবহার করেন।

ওসি তদন্ত রাকিব আরো জানান, গত ২ অক্টোবর সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে তুলে দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। পরে শুনানী না হওয়ায় তাকে জেল-হাজতে প্রেরন করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে শুনানী শেষে আদালত ২ দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন। 

প্রশঙ্গত, গত ৯ আগস্ট বুধবার পুঠিয়া উপজেলা সদরে অবস্থিত আল-মাহাদি ইসলামি হাসপাতাল নামের বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অপারেশন টেবিলে ভুল চিকিৎসায় পেটের ভেতর নবজাতকসহ প্রসূতির মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহীনির সদস্যরা ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে নার্স মারুফা খাতুনকে আটক করে পরে দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেল হাজতে চালান দেয়। তবে ক্লিনিক মালিক ও ভুয়া ডাক্তার সেখান থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা প্রশাসন ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেন।

স/অ

Print