বন্যা সহনশীল এ’জেড আমনধান চাষে বগুড়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে

October 9, 2017 at 9:02 pm

আল আমিন মন্ডল, বগুড়া:

বগুড়ার গাবতলী উপজেলাতে শেষমুহুতে আমনধান ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। এখন ধান ক্ষেতে সারসহ কীটনাশক ও শেষপর্যায়ে নিড়ানী দিতে দিন রাত ব্যস্ত সময় কাঠাচ্ছেন তারা।

এবছর কৃষকদের বন্যা সহনশীল ও উচ্চ ফলনশীল অ্যারাইজ এ জেড হাইব্রীড ধান চাষে আগ্রহ বাড়ছে। ফলে বন্যার পানি নেমে গেলেও এখন মাঠ জুড়ে সবুজের সমারাহ। দৃষ্টি যেদিকে যায় মন যেন জুড়িয়ে যায়।

সুত্র জানা যায়, সারাদেশে বন্যায় কৃষকরা যখন ক্ষতিগ্রস্থ ও দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। ঠিক তখনই বগুড়াসহ গাবতলীতে কৃষকরা বায়ার ক্রপ সাইন্সের এ জেড ৭০০৬ ধানের চাষ করেছে। ধান গাছের সবুজ রং ও এর অপরুপ সৌন্দর্যে কৃষকদের মাঝে যেন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন জাগিয়েছে। বন্যা সহনশীল হওয়ায় এ ধান লাগানোর পর ১২দিন ৮ফিট পানির নিচে ডুবে থাকার পরেও কোন ক্ষতি হয় না। পাশাপাশি এ জেড ৭০০৬ ধানের বিএলবি প্রতিরোধী ও উচ্চ ফলনশীল হওয়ার ফলে এ ধানের জীবনকাল ১২০দিন থেকে ১২৫দিন। ফলন প্রতি বিঘায় ২০থেকে ২৫মন। যেখানে মাঠের অন্য সকল জাতের ধান নষ্ট হওয়ার পরেও কৃষকরা পুনরায় আবারো এ ধানের চারা রোপন করছে।

এ বছরে বগুড়ার গাবতলী নেপালতলী কাশিহাটা গ্রামের কৃষক মনমোহন ২২শতক, কাহালুতে দুলাল মিয়া ২০শতক ও শিবগঞ্জ মিরপুরের আবু বক্কর ২৫শতক প্রদর্শনী প্লটের জমিতে এ ধান চাষ করা হয়েছে।

বন্যা সহনশীল ধান হওয়ায় বগুড়া জেলাসহ উত্তরাঞ্চলে দিনদিন এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বন্যায় ফসলের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ইতিমধ্যে আগাম আউশধান ও আমনধান চাষ করা হয়েছে। তাই ভাল ফলন আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

এ মৌসুমে উপজেলাতে আমনধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ১৫হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে। ইতিমধ্যে অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা হয়েছে ১৪হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৫২হাজার ৮৫০মেট্রিক টন (চাল)।

গাবতলী কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর আশা করছেন এবছরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। তবে দিনমজুর সংকট থাকলেও শেষ সময়ে তীব্র রোদে কৃষকরা পুরোদমে ধানের চারাগাছসহ আগাছা পরিস্কার করছে।

সুখানপুকুর এলাকার কৃষক মনমোহন জানান, বন্যা সহনশীল এ জেড ধান গাছের সবুজ বর্ন ধারন করেছে। চারিদিকে যেন সবুজের সমারাহ। যেদিকে তাকাই দৃষ্টি যেন জুড়িয়ে যায়। আশাকরছি ফলন ভাল হবে। উচ্চ ফলনশীল হাইব্রীড ধান এ জেড ৭০০৬ ইতিমধ্যে কৃষকদের নিয়ে মাঠ দিবস পালন করা হয়েছে।

বায়ার ক্রপ সাইন্সের রিজিয়নাল বিজনেস ম্যানেজার কৃষিবিদ মোঃ হেফজুল কবির ও বিজনেস ডেভলপমেন্ট ম্যানেজার কৃষিবিদ শামীম হোসাইন জানান, আশাকরছি বগুড়া’সহ উত্তরাঞ্চলে এ জেড ধানের বাস্পার ফলন হবে। আগামীদিনে কৃষকদের মাঝে এ জেড ধান বীজের চাহিদা আরো বাড়বে।

বগুড়া টেরিটরি অফিসার কৃষিবিদ শ্রীঃ গৌতম দাস জানান, এ জেড ধানে কৃষকদের উৎপাদন ও ফলন ভাল হবে। ইতিমধ্যে কৃষকদের এ জেড ধান চাষের তথ্য ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গাবতলী উপজেলা কৃষি অফিসার আঃ জাঃ মুঃ আহসান শহীদ সরকার জানান, ধান চাষে লাভ বেশি। তবে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাগন আমনধান গাছের রোগবালাই দমনে কৃষকদের তথ্য ও পরামর্শ দিচ্ছেন। আশা করছি আগামীদিনে আমন ধান চাষ ও উৎপাদন আরো বাড়বে।

এছাড়াও কৃষক ধানের বাম্পার ফলনের জন্য ক্ষতিকারক পোকা নিধনে আলোক ফাঁদ ও পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছে।

স/অ

Print