ঈদ আনন্দ নেই বাগমারার কৃষক পরিবারে

August 31, 2017 at 9:47 pm

বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারায় কৃষক পরিবারে এবারে ঈদ আনন্দ নেই। অতিরিক্ত বর্ষণ ও ওজানের পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন। এলকার কৃষকের ফসলি জমি, পানবরজ, বাড়ি-ঘর হারিয়ে অর্ধহারে অনাহারে অধিকাংশদের দিন কাটছে। ঈদ দুয়ারে কড়া নাড়লেও সেখানে নেই কোন আমেজ। চরম দুর্ভোগে কাটছে মানুষের জীবন। অর্থাভাবে বেশিরভাগ পরিবারেই কেনা-কাটা হয়নি। পারেনি অনেকে কুরবানীর পশু ক্রয় করেত। অতিরিক্ত বন্যায় ঈদ আনান্দ ম্লান করে দিয়েছে।

বাগমারা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলায় ১৭ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমিতে রোপা আউশ ও ৮৪০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বন্যায় ৬ হাজার ৬৯১ হেক্টর জমির রোপা আউশ ও ৩২১ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ধানের পাশাপাশি ওই সব এলাকার কৃষকদের বিভিন্ন তরিতরকারি এবং পানবরজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

মৎস্য চাষিদের কোটি কোটি টাকার মাছ। তলিয়ে গেছে শত শত পান বরজ, ধান, মরিজ, পাট ক্ষেত, ভেঙ্গে পড়ছে কাঁচা ঘরবাড়ি। ১২টি ইউনিয়নের দুর্দশার এমনটি চিত্র। বন্যায় নিঃস্ব বাগমারার উপজেলার বাসিন্দাদের বেশির ভাগই এবার বঞ্চিত হবেন ঈদ আনন্দ থেকে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা শূন্যতায় উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের দোকানিরা। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে এ সময়টিতে জামজমাট ক্রয়-বিক্রয় হলেও এ বছর দৃশ্য ভিন্ন পট। ঈদের বর্ণিল সাজে দোকানগুলো সাজলেও ক্রেতা কম। কারণ দুর্যোগের কারণে টাকা-পয়সা সংকট দুশ্চিন্তা আর দুর্ভোগ চরমে দিন কাটছে বানভাসিদের। ঈদ দুয়ারে এখন চরম অসহায় রয়েছে অনেক পরিবার। ছেলে-মেয়েদের আবদার রাখতে না পেরে ঈদের আনান্দ ম্লান হয়ে পড়েছে পরিবার গুলোতে।

উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের হলুদঘর গ্রামের শাহেদা বিবি বলেন, ছেলে-মেয়েদের লেখা পড়ার উৎস ছিল তার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পানবরজ। অভাবের সংসার ১ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে তার বাস। ছেলে ১ম শ্রেণীতে অংকে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও রেলওয়েসহ একাধিক স্থানে পরীক্ষায় টিকে মৌখিককে চাকুরী মিলেনি। মেয়ে বাংলায় মাস্টার্স করেছে। ঈদে পিতা হারা ছেলে-মেয়েদে আবদার নিয়ে বিপাকে রয়েছেন তিনি। একই ভাবে উপজেলার বীরকয়া গ্রামের আবুল কাশেম ও আলাউদ্দিনসহ ১৫/১৬ জন বানভাসরিা জানান, বন্যায় তাদের পানবরজ, ধান ক্ষেত, পুকুরের মাছ ভেসে নিয়ে গেছে। এতে করে তারা এবারে ঈদে আনান্দ হারিয়ে ফেলেছে।

এব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মাসেদুর রহমান জানান, বানভাসিদের অবস্থা খুবই খারাপ । এ পর্যন্ত সরকারী ভাবে বানভাসি ২৬৩০৫ জন পরিবারের তালিকা চেয়ারম্যানদের হাত হতে পেয়েছে। তবে এসংখ্যা আরো অনেক বাড়বে। সরকারী ভাবে বানভাসিদের ৭০ মেট্রিক টন চাল্য দেয়া হয়েছে। এবং চাহিদা মত আরো চাল সংগ্রহ ও দেয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

একই ভাবেউপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুর রহমান বলেন, এবারের বন্যায় কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে উর্দ্ধতন র্কতৃপক্ষের নিকট পাঠিয়েছি। আশা করছি ক্ষতি গ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা সহায়তা দিয়ে আগামীতে তারা আবারো ঘুরে দাঁড়াবে।

স/অ

Print