বাগমারার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, বিপাকে কৃষকেরা

August 13, 2017 at 6:25 pm

বাগমারা প্রতিনিধি:
টানা তিন দিনের ভারি বর্ষণে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে সবজি ক্ষেত। এছাড়া প্রায় একশ হেক্টর জমির রোপা আমন চারা তলিয়ে গেছে বলে স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। টানা বর্ষণে বিল এলাকার অনেক পুকুর তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার কৃষিজীবি মানুষেরা হাঁস মুরগী গরু ছাগল নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে। তার না পারছে সেগুলোর খাবার সংস্থান করতে না পারছে সেগুলো হাটে নিয়ে উপযুক্ত দামে বিক্রি করতে।

স্থানীয় কৃষক ও এলাকার জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা গেছে, অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ফকিরনী ও বারনই নদীর পানি ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিত ভাবে শতশত পুকুর খনন করায় পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে পড়ায় উপজেলার নিম্নাঞ্চল গুলো প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এসব নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ সবজি ক্ষেত বিশেষ করে পটল, মূলা, বেগুন, কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেত বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে বাজারে এসব সবজির দাম এখন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পটল মূলা বেগুন কেজিতে বিশ টাকা বেড়ে দাড়িয়েছে পঞ্চশ টাকা এবং কাঁচা মরিচ কেজিতে ত্রিশ টাকা বেড়ে দাড়িয়েছে দেড়শ টাকা। সম্প্রতি অতি বর্ষণ জনিত কারণে কৃষকের সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার অজুহাতে এসব পন্যের দাম ্ক্রমেই আরো বেড়ে চলেছে।

গোপালপুর গ্রামের কৃষক সেকেন্দার আলী জানান, তাদের গোপালপুর গ্রামের স্লুইসগেট সংলগ্ন পূর্ব এলাকা দখল করে সেখানে পুকুর খনন করে স্লুইসগেটের মাধ্যমে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে দেওয়ায় প্রায় চৌদ্দটি গ্রামসহ দুটি বিলের পানি প্রবাহের পথ এখন সম্পূর্ন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ওই সব গ্রামের নিম্নাঞ্চল গুলো প্লাবিত হয়ে সেখানকার কৃষকের সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে।

একই অভিমত ব্যক্ত করে মাড়িয়ার কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, কাঁঠালবাড়ি, হায়াতপুর ও সেউজবাড়ি এলাকার বিস্তৃর্ন ডারা(খাল) এলাকা দখল করে একের পর এক পুকুর খনন করায় এই ডারা(খাল) দিয়ে আর পানি প্রবাহিত হতে পারছে না। ফলে টানা তিন দিনের বর্ষণে এই সব এলাকায় নিচু জমির সবজি ক্ষেত এবং ডারার জমিতে লাগানো রোপা আমন চারা সম্পূর্ন তলিয়ে গেছে।

যোগিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন জানান, ধান ও সবজি তার এলাকার প্রধান ফসল। গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে তার এলাকার নিম্নাঞ্চল গুলো প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এসব পানি কয়েকটি খালের মাধ্যমে পাশ্ববর্তী আত্রাই নদীতে গিয়ে প্রবাহিত হয়। কিন্তু অপরিকল্পিত কিছু পুকুর খনন ও খালগুলো ভরাট হয়ে পড়ায় এখন আর সহজে পানি নিস্কাশন হতে পারছে না। ফলে তীব্র জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে তার এলাকায় প্রায় পঞ্চাশ হেক্টর জমির ধান ও সবজি ক্ষেত এখন পানির নিচে। তিনি যোগিপাড়া সহ পাশ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার খালগুলো পূনখননের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিকট জোর দাবী জানান।

এসব বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজিবুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি সম্প্রতিক অতিবর্ষণ ও বন্যায় উপজেলার কৃষি সেক্টরের ধান, সবজিসহ কয়েকটি ফসলের আংশিক ক্ষতির বিষয় উল্লেখ করে সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, বিলের চাইতে নদীর পানির উচ্চতা বেশি থাকায় পানি ধীর গতিতে প্রবাহিত হচ্ছে। বড় বড় নদ নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এমনটি ঘটছে। তবে এলাকার বিলগুলোর খাল খনন তার বিভাগের আওতাধীন নয়। তার পরও তারা খাল গুলো পূন:খননে উপজেলা ও জেলার বিভিন্ন সভায় দাবী তুলে ধরেন।

স/অ

Print