এইট পাশ করেই হওয়া যাবে চিকিৎসক, ডাক্তার তৈরির কারখানা শহরের পাশেই

June 20, 2017 at 4:35 am

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক: ব্রহ্মদত্যি নয়, বেলতলায় এবার স্বাস্থ্যের ভূত!

হাওড়ার ফুলেশ্বরের বেলতলায় ‘মেডিক্যাল কলেজ’ চালু হওয়ার কথা আগামী জুলাইয়ে। তেমনই প্রচার চলছে এলাকায়। ভর্তির যোগ্যতা—মাধ্যমিক পাস। ফি—১৭ হাজার টাকা। ক্লাস এইট উত্তীর্ণ হলেও চলবে। তবে সেক্ষেত্রে টাকা বেশি লাগবে।

এ হেন ডাক্তারির ‘কারখানা’ তৈরি হয়েছে বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার হায়দর আজিজ সফবির বিধানসভা এলাকায়। ঘটনাচক্রে, পাশের বিধানসভার বিধায়কই রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি নির্মল মাজি।  রাজ্যে ‘ভুয়ো চিকিত্সক’ ধরিয়ে দেবেন বলে পণ করেছেন যিনি!

প্রসঙ্গত, ‘উলুবেড়িয়া বায়োকেমিক মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল’এর অন্য শাখাটি চালু হওয়ার কথা দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার সহরার হাটে। নাম— ‘বেঙ্গল বায়োকেমিক মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল’। প্রচারপত্রে লেখা রয়েছে, ‘সরাসরি ডাক্তারী কোর্সে ভর্তি চলছে’। একটি কোর্সের সময়সীমা সাড়ে তিন বছর। অন্যটি সাড়ে পাঁচ বছরের।

উলুবেড়িয়া এবং ফলতার মেডিক্যাল কলেজের কর্তা হিসাবে পরিচয় দিয়ে অভিষেক কয়াল নামে একজন সোমবার ‘এবেলা’কে বলেন, ‘‘ক্লাস শুরু হবে জুলাই মাসে। ছাত্র ভর্তি নিচ্ছি।’’ কাদের কাছে অনুমতি নিয়েছেন? অভিষেকের উত্তর, ‘‘ভারত সরকারের একটি অনুমোদিত সংস্থার কাছে অনুমতি নিয়েছি। তাঁরা প্রতি ছাত্র পিছু তিন হাজার টাকা নেবেন।’’ তবে সংস্থার নাম জানাননি তিনি। এই ধরনের কলেজ তো বেআইনি? অভিষেকের উত্তর, ‘‘জানি না। কাজ তো শুরু করেছি। ডাক্তারি পড়ানো হবে।’’

সংস্থার আর এক কর্তা জানান, তাঁর নাম সুবীর পাল। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের আর একটা ব্রাঞ্চ দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় শুরু হচ্ছে। এইট পাস হলে বেশি টাকা লাগবে।’’ কী কী কোর্স পড়াবেন? সুবীরের জবাব, ‘‘মেডিসিন, আয়ুর্বেদ, অ্যালোপ্যাথি, কমিউনিটি মেডিসিন— এ সবের ডিপ্লোমা পড়ানো হবে। ডিগ্রি আমরা দেব না। ডিপ্লোমা দেব।’’ এসব তো আইনবিরুদ্ধ। রাজ্য সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। আপনাদের কলেজ বন্ধ করার জন্য প্রশাসন কিছু বলেছে? অভিষেক বলেন, ‘‘আমাদের তো কেউ কিছু বলেননি। এখনও পর্যন্ত ফলতার কলেজে ১৪ জন ছাত্র পেয়েছি। উলুবেড়িয়ার কলেজে ভর্তি হয়েছেন সাত জন।’’

কিন্তু কীভাবে এই ‘মেডিক্যাল কলেজ’ তৈরি হল? ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘‘আগে শুনিনি। আপনাদের কাছেই শুনলাম। এখনই জেলা পুলিশ সুপারকে বলছি।’’ আর বর্তমানে এস এস কে এমে চিকিত্সাধীন নির্মল বলেন, ‘‘সব ফেক মেডিক্যাল কলেজ। এসব গত চল্লিশ বছর ধরে চলছে।’’ যদিও অভিষেকের দাবি, ২০১৬ সালের অক্টোবর শুরু হয়েছে কলেজের ‘কাজকর্ম।

আইএমএ’র রাজ্য শাখার সম্পাদক শান্তনু সেন বলেন, ‘‘এমন মেডিক্যাল কলেজের কথা শুনে স্তম্ভিত! প্রশাসন যথেষ্ট তত্পর। আশা করি, তাঁদের নজরে এলেই ব্যবস্থা নেবেন।’’ এদিন রাতেই অবশ্য হাওড়া জেলার পুলিশ ‘এবেলা’র কাছে খোঁজখবর নেয়। এক পুলিশ কর্তা বলেন, ‘‘সফবি সাহেব এসপি’কে বিষয়টি জানিয়েছেন।’’  সূত্র: এবেলা

Print