সব বগি ফেলে ইঞ্জিন চলল ১০ কিলোমিটার

June 19, 2017 at 1:34 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক: কিশোরগঞ্জ থেকে আন্তনগর কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি গতকাল রোববার যথাসময়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার গচিহাটা স্টেশনে এসে চালক দেখতে পান ইঞ্জিনের সঙ্গে একটি বগিও নেই। কিছুক্ষণ পর চালক জানতে পারেন প্রায় ১০ কিলোমিটার পেছনে তিনি ট্রেনটির সব কটি বগি ফেলে এসেছেন। পরে ইঞ্জিন নিয়ে সেখানে গিয়ে বগিসহ গন্তব্যে রওনা দেন।

পুলিশ ও রেলওয়ে সূত্র জানায়, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার নির্ধারিত সময় বেলা ২টা ৪০ মিনিট। গতকাল যথাসময়ে ১২টি বগি নিয়ে ট্রেনটি কিশোরগঞ্জ স্টেশন ছেড়ে যায়। স্টেশন থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার যাওয়ার পর ইঞ্জিনটি বগি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কিন্তু চালক বিষয়টি টের পাননি। আরও ১০ কিলোমিটার দূরে গচিহাটা স্টেশন। ওই স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি রয়েছে। সেখানে থামার পর বিষয়টি চালকের নজরে আসে। পরে তিনি যোগাযোগ করে জানতে পারেন বগিগুলো কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকরিয়াইল এলাকায় ফেলে এসেছেন। ওই সময় ওই লাইনে অন্য কোনো ট্রেনের যাত্রা ছিল না বলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

চালক তোফাজ্জল হক সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আসলে বুঝতে পারেননি। ইঞ্জিন থেকে বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর পরিচালকদের (গার্ড) সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়নি। এ কারণে ঘটনার পরপর তিনি টের পাননি। কিশোরগঞ্জ স্টেশন থেকে ছাড়ার সময় বগিগুলো যথাযথভাবে সংযোজন না করার কারণে এমনটা হয়েছে।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার শরফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের স্টেশন থেকে ট্রেনটি ঠিকমতোই ছেড়ে গেছে।’

এদিকে ইঞ্জিন থেকে বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পর বগিতে ঝাঁকুনির সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। কফিল উদ্দিন (৪২) নামের এক যাত্রী বলেন, দুর্ঘটনার আশঙ্কায় সব যাত্রী ট্রেন থেকে নেমে আসেন।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক আবদুল হাই বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধান শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: প্রথম আলো

Print