ঠিক যেন যুদ্ধক্ষেত্র, মৃত মোর্চা সমর্থক! আরও অগ্নিগর্ভ পাহাড়, কী করবেন মমতা

June 17, 2017 at 9:13 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক: যত সময় যাচ্ছে তত উত্তপ্ত হচ্ছে পাহাড়। এ দিনও দার্জিলিংয়ে পুলিশ এবং মোর্চা সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে। এরই মধ্যে পুলিশের গুলিতে তাদের এক সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। মোর্চার অবশ্য দাবি, একজন নয়, তাদের দুই সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। যদিও, এক মোর্চা সমর্থকের মৃত্যু কথা স্বীকার করলেও তাদের গুলিতে ওই সমর্থকের মৃত্যু হয়নি বলে দাবি করেছে পুলিশ।

এ দিন সকাল থেকেই সিংমারি, লেবঙ-সহ বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে মিছিল বার করে মোর্চা সমর্থকরা। পুলিশ সেই মিছিল আটকাতেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে মোর্চা সমর্থকরা। পুলিশের দিকে লক্ষ্য করে ইট, বোতল, পেট্রল বোমা ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। দার্জিলিংয়ের সেন্ট জোসেফ কলেজের সামনে এক মোর্চা সমর্থক গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

মোর্চার দাবি, তাদের এক সমর্থকের পাশাপাশি আরও কয়েকজন সমর্থক আহত হয়েছেন। অন্যদিকে রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) অনুজ শর্মা দাবি করেছেন, পুলিশ কোনও গুলি চালায়নি। বরং মোর্চার মিছিল থেকেই বোমা, গুলি ছোড়া হয়। সেই গুলিতে ওই মোর্চা সমর্থকের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে কীভাবে ওই মোর্চা সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। অনুজ শর্মার আরও দাবি, মোর্চার আক্রমণে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে এ দিনই নবান্নে পাহাড় পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠকে পাহাড়ে বিভিন্ন জনজাতির উন্নয়ন বোর্ডগুলির সভাপতিদের ডেকে মোর্চাকে আরও একঘরে করার চেষ্টা করেছেন মমতা। রাজ্য যে কোনওভাবেই মোর্চার প্রতি নরম মনোভাব দেখাবে না, তা আগেই স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এ দিনের মোর্চা সমর্থকের প্রাণহানির পরেও মমতা নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন কি না, সেটাই দেখার। কারণ নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বিমল গুরুঙ্গরাও যে জঙ্গি আন্দোলন থেকে সরে আসবে না, তা পরিষ্কার। ফলে, পাহাড় নিয়ে মাথাব্যথা আরও বাড়ল মুখ্যমন্ত্রীর। আজই পাহাড় নিয়ে কেন্দ্রকে রিপোর্ট দিচ্ছে রাজ্য।

স/আর

Print