স্বাধীনতার ৪৬ বছরে বাজেট বেড়েছে ৪৩২ গুণ

May 31, 2017 at 11:50 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক: দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২-৭৩ অর্থবছর প্রথম বাজেট ঘোষণা করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃতত্বাধীন সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দিন আহমেদ স্বাধীন বাংলাদেশের সেই প্রথম বাজেট উপহার দিয়েছিলেন। দেশের প্রথম সেই বাজেটের আকার ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা।

এই বাজেট থেকে শুরু করে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছর পর্যন্ত বিগত ৪৬ বছরে দেশে জাতীয় বাজেটের পরিমাণ বেড়েছে ৪৩২ গুণ। আজ বঙ্গবন্ধু নাই। কিন্তু এর ৪৬ বছর পর সেই বাংলাদেশেই বঙ্গবন্ধ কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দিতে যাচ্ছেন চার লাখ কোটিরও বেশি টাকার বাজেট।

বৃহস্পতিবার (১ জুন) জাতীয় সংসদে পেশ করা হবে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সেই বাজেট। এই বাজেট দেশের ৪৬তম বাজেট। এটি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের তিন মেয়াদ একত্রে ১৫তম বাজেট। যা দেশের প্রথম ১৯৭২-১৯৭৩ অর্থবছরের তুলনায় ৪৩২ গুণ বড়।
বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বাজেট অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করবেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে তার এই টানা নবম বাজেট হলেও তার মোট ১১তম বাজেট এটি। অর্থমন্ত্রী মুহিত এরশাদ সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে এর আগেও ১৯৮২-১৯৮৩ ও ১৯৮৩-১৯৮৪ অর্থবছরের জন্য দু’টি জাতীয় বাজেট দিয়েছিলেন।

বাংলাদেশে এতো বড় আকারের বাজেট উপস্থাপন করায় বিভিন্ন মহল থেকে এই বাজেটকে উচ্চাভিলাসী বাজেট বলা হচ্ছে। তবে অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেছেন, ‘আমাদের জাতীয় বাজেট এখনও অনেক দেশের তুলনায় কম। পৃথিবীর অনেক দেশ আছে যারা তাদের জিডিপির ২৫ শতাংশের ওপরে বাজেট দেয়। আমরা তা এখনও করতে পারছি না। আমরা এখনও জিডিপির ২০ শতাংশের নিচেই আছি।’

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭২ থেকে চলতি ২০১৭ সাল পর্যন্ত সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরাই এই বাজেট পেশ করেছেন। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছাড়াও কখনও  কখনও দেশের প্রধানমন্ত্রী, কখনও উপদেষ্টা, কখনও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক, আবার কখনও রাষ্ট্রপতি নিজেই বাজেট ঘোষণা করেছেন। দেশের এই ৪৬তম বাজেটসহ সবগুলো বাজেট পেশ করেছেন ১১ জন।

এরা হলেন-  তাজউদ্দিন আহমেদ, ড. আজিজুর রহমান, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, ড. এম এন হুদা, এম. সাইফুর রহমান, আবুল মাল আবদুল মুহিত,  এম সায়েদুজ্জামান, মেজর জেনারেল এম এ মুনিম, ড. ওয়াহিদুল হক, শাহ্ এএমএস কিবরিয়া ও ড. এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম।

এদের মধ্যে তাজউদ্দিন আহমেদ অর্থবছর ১৯৭২-১৯৭৩, ১৯৭৩-১৯৭৪ ও ১৯৭৪-১৯৭৫ অর্থবছরসহ মোট তিন বার, ড. আজিজুর রহমান একবার (১৯৭৫-১৯৭৬), মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৬-১৯৭৭, ১৯৭৭-১৯৭৮ ও  ১৯৭৮-১৯৭৯ অর্থবছরসহ মোট  তিন বার, ড. এম এন হুদা এক বার (১৯৭৯-১৯৮০)।

এম. সাইফুর রহমান ১৯৮০-১৯৮১ ও ১৯৮১-১৯৮২ অর্থবছরে দুই বার এবং ১৯৯১-১৯৯২, ১৯৯২-১৯৯৩, ১৯৯৩-১৯৯৪, ১৯৯৪-১৯৯৫, ১৯৯৫-১৯৯৬ অর্থ বছরে পাঁচ বার এবং ২০০২-২০০৩, ২০০৩-২০০৪, ২০০৪-২০০৫, ২০০৫-২০০৬, ২০০৬-২০০৭ পর্যন্ত আরও পাঁচ বারসহ সর্বমোট ১২ বার বাজেট পেশ করেন।

আবুল মাল আবদুল মুহিত অর্থবছর ১৯৮২-১৯৮৩ ও ১৯৮৩-১৯৮৪ অর্থবছরে দুই বার, ২০০৯-২০১০, ২০১০-২০১১, ২০১১-২০১২, ২০১২-২০১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে ছয় বার এবং ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে দুইবারসহ সবর্বমোট ১০ বার বাজেট পেশ করেন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট পেশ করলে তার হবে বাজেট পেশ হবে মোট ১১ বার।
এম সায়েদুজ্জামান ১৯৮৪-১৯৮৫, ১৯৮৫-১৯৮৬, ১৯৮৬-১৯৮৭ ও ১৯৮৭-১৯৮৮ অর্থবছরে চার বার বাজেট পেশ করেন। মেজর জেনারেল এম এ মুনিম অর্থবছর ১৯৮৮-১৯৮৯ ও ১৯৯০-১৯৯১ অর্থবছরে দুই বার বাজেট পেশ করেন। ড. ওয়াহিদুল হক ১৯৮৯-১৯৯০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন।

শাহ্ এএমএস কিবরিয়া ১৯৯৬-১৯৯৭, ১৯৯৭-১৯৯৮, ১৯৯৮-১৯৯৯, ১৯৯৯-২০০০, ২০০০-২০০১ ও ২০০১-২০০২ অর্থবছররে মোট মোট ছয় বার বাজেট পেশ করেন।এছাড়া ২০০৭-২০০৮ ও ২০০৮-২০০৯ এই দুই বছর বাজেট পেশ করেন ড. এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম।

স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭২-১৯৭৩ অর্থবছর থেকে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছর পর্যন্ত দেওয়া বাজেটের পরিমাণ ও অর্থমন্ত্রীদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:-

অর্থবছর তাজউদ্দিন আহমেদ: ১৯৭২-১৯৭৩ অর্থবছরে ৭,৮৬ কোটি টাকা, ১৯৭৩-১৯৭৪ অর্থবছরে ৯,৯৫ কোটি টাকা, ১৯৭৪-১৯৭৫ অর্থবছরে ১,০৮৪.৩৭ কোটি টাকা।

ড. আজিজুর রহমান: ১৯৭৫-১৯৭৬  অর্থবছরে ১,৫৪৯.১৯ কোটি টাকা।

মে. জে জিয়াউর রহমান: ১৯৭৬-১৯৭৭ অর্থবছরে ১,৯৮৯.৮৭ কোটি টাকা, ১৯৭৭-১৯৭৮ অর্থবছরে ২,১৮৪ কোটি টাকা। ১৯৭৮-১৯৭৯ অর্থবছরে ২,৪৯৯ কোটি টাকা।

ড. এম এন হুদা: ১৯৭৯-১৯৮০ অর্থবছরে ৩,৩১৭ কোটি টাকা।

এম সাইফুর রহমান: ১৯৮০-১৯৮১ অর্থবছরে ৪,১০৮ কোটি টাকা ও ১৯৮১-১৯৮২ অর্থবছরে  ৪,৬৭৭ কোটি টাকা।

আবুল মাল আবদুল মুহিত: ১৯৮২-১৯৮৩ অর্থবছরে ৪,৭৩৮ কোটি টাকা ও ১৯৮৩-১৯৮৪ অর্থবছরে ৫,৮৯৬ কোটি টাকা।

এম সায়েদুজ্জামান: ১৯৮৪-১৯৮৫ অর্থবছরে ৬,৬৯৯ কোটি টাকা, ১৯৮৫-১৯৮৬ অর্থবছরে ৭,১৩৮ কোটি টাকা,   ১৯৮৬-১৯৮৭ অর্থবছরে ৮,৫০৪ কোটি টাকা ১৯৮৭-১৯৮৮ অর্থবছরে ৮,৫২৭ কোটি টাকা।

মেজর জেনারেল (অব.) মুনিম: ১৯৮৮-১৯৮৯  অর্থবছর ১০,৫৬৫ কোটি টাকা।

ড. ওয়াহিদুল হক: ১৯৮৯-১৯৯০ অর্থবছরে ১২,৭০৩ কোটি টাকা।

মেজর জেনারেল (অব.) মুনিম: ১৯৯০-১৯৯১  অর্থবছরে ১২,৯৬০ কোটি টাকা।

এম সাইফুর রহমান: ১৯৯১-১৯৯২ অর্থবছরে ১৫,৫৮৪ কোটি, ১৯৯২-১৯৯৩ অর্থবছরে ১৭,৬০৭ কোটি,  ১৯৯৩-১৯৯৪ অর্থবছরে ১৯,০৫০ কোটি, ১৯৯৪-১৯৯৫ অর্থবছরে ২০,৯৪৮ কোটি, ১৯৯৫-১৯৯৬ অর্থবছরে ২৩,১৭০ কোটি টাকা।

এসএএমএস কিবরিয়া: ১৯৯৬-১৯৯৭ অর্থবছরে ২৪৬০৩ কোটি, ১৯৯৭-১৯৯৮ অর্থ বছরে ২৭,৭৮৬ কোটি, ১৯৯৭-১৯৯৮ অর্থবছরে ২৭,৭৮৬ কোটি, ১৯৯৮-১৯৯৯ অর্থবছরে ২৯,৫৩৭ কোটি, ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে ৩৪,২৫২ কোটি, ২০০০-২০০১ অর্থবছরে ৩৮,৫২৪ কোটি, ২০০১-২০০২ অর্থবছরে ৪২,৩০৬ কোটি টাকা।

এম সাইফুর রহমান: ২০০২-২০০৩ অর্থবছরে ৪৪,৮৫৪ কোটি, ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে ৫১,৯৮০ কোটি, ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে ৫৭,২৪৮ কোটি, ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে ৬১,০৫৮ কোটি, ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে ৬৯,৭৪০ কোটি টাকা।

মির্জা আজিজুল ইসলাম: ২০০৭-২০০৮ অর্থবছর ৯৯,৯৬২ কোটি, ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে ৯৯,৯৬২ কোটি টাকা।

আবুল মাল আব্দুল মুহিত: ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে ১,১৩,৮১৫ কোটি, ২০১০-২০১১ অর্থবছরে ১,৩২,১৭০ কোটি, ২০১১-২০১২ অর্থবছরে ১,৬৫,০০০ কোটি, ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে ১,৯১,৭৩৮ কোটি টাকা, ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে দুই লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে দুই লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে তিন লাখ ১০০ কোটি, ২০১৬-২০১৭  অর্থবছরে তিন লাখ ৪০ হাজার ৭৩৫ কোটি এবং ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে সম্ভাব্য চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকা (প্রস্তাবিত)। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

Print