আধাঁর পেরিয়ে।।ড. মির্জা গোলাম সারোয়ার পিপিএম

May 29, 2017 at 11:58 am

আবির স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে সবেমাত্র কলেজে প্রবেশ করেছে। রঙ্গীন স্বপ্নময় নতুন পরিবেশ। প্রথম দিন ক্লাশে সহপাঠি একটি মেয়ের সাথে চোখাচোখি হতেই মেয়েটি মুচকী হেসে চলে যায়। এরপরে অনেকবার তার সাথে দেখা হয়েছে। প্রতিবারই সে আবিরকে দেখে মুচকী হেসেছে। ক্রমেই মেয়েটির প্রতি আবির দুর্বল হয়ে যায়। মেয়েটির হাসি না দেখলে সে থাকতেই পারে না।  মেয়েটির মুচকী হাসার কারণে পুলকিত হয়ে আবিরও সবসময় তার অপেক্ষায় থাকে। দেখা হলেই সেই মুচকী হাসি। আবির ভাবে সে হয়তো তাকে ভালবাসে। তাই মুচকী হাসে। ক্রমেই সে হয়ে উঠে আবিরের স্বপ্নসারথী। আবির তার ভাল লাগার কথা মেয়েটিকে জানাতে চায়। কিন্তু সাহস পায় না। ভাবে মেয়েটি যদি মনক্ষুন্ন হয়ে সরাসরি না বলে।

একদিন বর্ষন মুখর দিনে মনের তীব্র আবেগ নিয়ে আবির তাকে প্রপোজ করে। শুনে মেয়েটি একটু থেমে পুনরায় মুচকী হেসে বলে, আবির নাকি দেখতে অবিকল তার হবু স্বামীর মতো। তাই দেখা হলেই মুচকী হাসে। মেয়েটি আরও জানায় তার হবু স্বামী ইংল্যান্ডে অধ্যয়নরত। গত মাসে দেশে এসে তার সাথে এনগেজমেন্ট করে গেছেন। ভিসা পেলেই সেও চলে যাবে। মেয়েটির কথা শুনে মুখে এক টুকরো কষ্টের হাসি নিয়ে আবির দাঁড়িয়ে থাকি। তার হৃদয়ের সমস্ত ব্যাকুলতা হঠাৎ থেমে যায়। জীবনে প্রথম কোন মেয়েকে ভাল লাগার কথা জানাতে গিয়ে আবির প্রচ-ভাবে হোঁচট খায়। ফলে তার জীবনে নেমে আসে শুধুই আঁধার। মন খারাপের কারণে কয়েকদিন সে ক্লাসেই যায় না। কিন্তু বন্ধুদের পরামর্শ ও উৎসাহে কিছু দিনের মধ্যেই সে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে এবং পুনরায় নিয়মিত ক্লাসে যেতে থাকে।

আবির একদিন কলেজে প্রবেশ করতেই সকালের কাঁচা রোদে লালকৃষ্ণচূড়া গাছের নীচে হঠাৎ একটি মেয়ের সাথে অনিচ্ছাকৃত ধাক্কা লেগে তার হাতে থাকা লাল রংয়ের মনোরম ভ্যানেটি ব্যাগ ছিটকে পড়ে। আবির অপ্রস্তত হয়ে স্যরি বলে ব্যাগটি তুলে তার হাতে দেয়। মেয়েটি মিষ্টি হেসে, ঠিক আছে সমস্যা নেই বলে হাত বাড়াতেই তার হাতের সাথে আবিরের হাত লেগে কাশফুলের নরম ছোঁয়া অনুভব করে। মেয়েটি লাল রংয়ের রুমাল দিয়ে কপাল মুছে ব্যাগ হাতে ধন্যবাদ জানাতেই চেয়ে দেখে অসম্ভব সুন্দরী এক মেয়ে। নখগুলি লাল পালিশ করা। দু হাতে লাল রংয়ের কাঁচের চুরি। হাতের আংটির ফুলটিও লাল। মাথার লম্বা কালো চুল খোপা করে লাল ফিতা দিয়ে বাঁধা। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কানের দুল এবং নাকের ছোট নথটিও লাল।

শুধু তাই নয় মেয়েটির কপালে লালটিপ, ঠোটে লিপস্টিকের লাল প্রলেপ। চোখে আইলাইনার আর মাসকারা। পরণে ম্যাচ করে লাল শাড়ী আর ব্লাউজ। হাতে লাল রংয়ের মোবাইল আর একগুচ্ছ লাল গোলাপ। চোখে লাল রংয়ের চশমা। এমনকি আলতা লাগানো পায়ের স্লিপার দুটিও লাল। ঠিক যেন নাটোরের বনলতা। তার অপরুপ চেহারা এবং চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য্য আবিরকে মুগ্ধ করে হৃদয়ে নাড়া দেয়। সে একদৃষ্টে মেয়েটির দিকে চেয়ে থাকে।

এভাবে তাকিয়ে দেখতে থাকায় প্রভাতের ফোটা ফুলের মতো মেয়েটিও লজ্জায় লাল হয়ে যায়। কাকতালীয়ভাবে আবিরের পরণের টি শার্ট ছিল লাল রংয়ের। কলেজ শেষে লাল রংয়ের একটি প্রাইভেট কার এসে মেয়েটিকে নিয়ে যায়। পরে আবির জেনেছে তার নাম লাল বানু। থাকে লালবাগের লাল কুঠিতে। মনের অজান্তেই তাকে আবিরের ভীষণ ভাল লাগে। তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে থাকে। তার মাঝে খুঁজে পায় দিগন্ত ছোঁয়া নীলাকাশ। আবির মেয়েটিকে পছন্দ করলেও তার সাথে আর কথা হয় না। কারণ কলেজ শেষে বাড়ী ফেরার পথে মেয়েটি ঐদিন কার দূর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে চলে গেছে না ফেরার দেশে। তাকে ঘিরে আবিরের সব স্বপ্ন হারিয়ে যায়। সেদিনের সেই মধুর স্মৃতি সব সময় তার হৃদয়ে অফুরন্ত বেদনা জাগায়। এবারও আবির ব্যর্থ হয়। তার মন থেকে আনন্দ আর হাসি উবে গিয়ে পুনরায় নেমে আসে একরাশ আঁধার।

কিছুদিন পর ক্লাশের একটি অনিন্দ্য সুন্দর মেয়ে প্রানবন্ত এবং উচ্ছসিত মায়াবী হাসির জন্য ভীষণভাবে সবার নজর কাড়ে। সহজ সরল সাবলীল কথাবার্তা এবং স্বভাবসুলভ হৈ চৈ এর জন্য কলেজে ক্রমেই সে সবার কাছে প্রভাতের সদ্য ফোটা ফুলের মতো প্রিয় হয়ে উঠে। তার চলাফেরা, ভাবভঙ্গী এবং চাহনী ছিল আকর্ষণীয়। অনেক আশার আলো ছড়িয়ে ঠোঁটের কোণে একটু হাসি এনে মিষ্টি স্বরে কথা বলার সময় তৃপ্তির আভা চারিদিকে ছড়িয়ে যেত। মেয়েটির মন মাতানো ভুবন ভোলানো হাসি আর মোহনীয় কথার মাধ্যমে সবাইকে আপন করে নিত খুব সহজেই। তার হৃদয় জুড়ে ছিলো এক অকল্পনীয় সরলতা। সে গল্পগুজবে কলেজের সবাইকে সারাক্ষণ মুখরিত করে রাখতো।

আবির ভীষণভাবে মুগ্ধ হয়ে মনের অজান্তেই তার মাঝে তীব্র ভাল লাগা খুঁজে পায়। ক্রমশ: তাকে ভাল লাগা শুরু করে। মনের স্বপ্ন ঘুড়িটা আকাশে উড়িয়ে মেঘের ভেলায় ভেসে হারিয়ে যেতে চায়। কিন্তু মেয়েটিকে বলবো বলবো করে বলা হয় না। আলাপ চারিতায় মেয়েটিও কিছু বলতে চায় অথচ বলে না। চিন্তা চেতনায় অসার ঘটিয়ে স্বতস্ফূর্ত আবেগ আর উচ্ছ্বাস এবং একরাশ প্রত্যাশা নিয়ে একদিন আবির তাকে মনের না বলা কথা জানাতে গিয়ে শুনে, মেয়েটি হঠাৎ ক্লাশ ছুটির আগেই কেন জানি কলেজ ছেড়ে চলে গেছে।
সপ্তাহ খানেক কলেজে না আসায় খোঁজ নিয়ে আবির জানতে পারে, মেয়েটি বাবার বদলী সূত্রে দু’দিন আগে অন্যত্র চলে গেছে। শুনে আবিরের হৃদয় বেদানায় ভারাক্রান্ত হয়ে প্রচ- হতাশা আর বিষন্নতা এসে ভর করে। মনে হয় সে কি যেন হারিয়েছে। বুকের ভেতরটা মোচড়ে বেদনায় নহর বয়ে যায়। হঠাৎ সব স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন হয়ে আবির নিজেকে ভীষণ অসহায় বোধ করে। থেমে যায় আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন। অগোচরে চোখের পানি ফেলে ব্যর্থ হৃদয় নিয়ে এখন সে শুধু তার নিস্ফল অপেক্ষায়। মেয়েটি তার স্মৃতির কোঠায় স্থায়ী ছাপ এনে চির অম্লান হয়ে আছে। কারণ সে তার ভাল লাগার অন্যতম স্বপ্নসারথী। যদিও কখনো তাকে দেখার আর সুযোগ হয়নি।

মেয়েটির স্মৃতি সবসময় তীব্র অনুভূতি নিয়ে আবিরের হৃদয়ে শুধু বেদনা জাগায়। মেয়েটির সুন্দর মুখখানি স্মৃতি পটে বারবার ভেসে আসে। কিন্তু বেলা শেষে ঘরে ফেরা পাখির মতো আবির গন্তব্যহীন দাঁড়িয়ে মুখে এক টুকরো কষ্টের হাসি নিয়ে। চলার পথে ফেলে আসা দিনগুলো উঁকি মারে। হৃদয় দোলে আশা নিরাশায়। ক্ষনিকের জন্য হলেও দেখা হবে কি কোনদিন? তাকে যে আবির ভুলতে পারেনা। মেয়েটি তার জীবনে বয়ে এনেছে অফুরন্ত আঁধার।
আবির পড়াশুনা সমাপ্ত করে সবে মাত্র চাকুরীতে যোগদান করেছে। সেই সুবাদে প্রায়ই বসের বাসায় যেতে হয়। একদিন যেতেই একটি মেয়ে দরজা খুলে লজ্জাবনত দৃষ্টিতে লাজুক চেহারায় খুবই মোলায়েম কন্ঠে জিজ্ঞেস করে, কাকে চাই? আবির তার পানে না চেয়ে বলে, স্যার আছেন? জ্বি না, উনি বাহিরে আছেন, কখন ফিরবেন ঠিক নেই। আপনি পরে আসবেন। মেয়েটি সাবলীল ভাবে একনাগাড়ে কথাগুলো বলেই দরজা বন্ধ করে দেয়। আবির আশ্চর্য্য হলেও অযথা সময় নষ্ট না করে ফিরে আসে। এরপরে কাজ নিয়ে বসের বাসায় গেলেই মাঝে মাঝে মেয়েটির সাথে দেখা হলেও কথা হতো না।

একদিন বিকালে বস আবিরকে জরুরীভাবে তার বাসায় ডেকে পাঠান। বাসায় গিয়ে আবির তাকে খুব রিলাক্স মুডে দেখতে পায়। এ সময় সেই মেয়েটি তার পাশে দাঁড়িয়েছিল। আবিরকে দেখে সে হাসি মুখে কুশলাদি জিজ্ঞেস করে বলেন, এসো এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেই। মেয়েটিকে কাছে ডেকে তিনি বলেন, এ হলো আমার ছোট গিন্নী। মেয়েটি কথা না বলে শুধু হাসে। তার তীক্ষ্ম হাসিটি ছিল খুবই মিষ্টি মধুর। মনে আড়ষ্টতা নিয়ে আবির প্রথমবারের মতো তাকিয়ে দেখে, মেয়েটি হালকা পাতলা। কিন্তু বেশ লম্বা। ডাগর দুটি চোখ পটল চেরা হরিনীর মতো মায়াবী। গায়ের রং উজ্জল শ্যামলা। মাথা ভর্তি দীর্ঘ কালো চুল। এক কথায় অনিন্দ্য সুন্দরী। চেহারায় উষ্ণতার  ছাপের সাথে আছে অলস সৌন্দর্য।

এরপর আবির ঐ বাসায় অনেকবার যায়। কিন্তু মেয়েটি চুপচাপ বিষন্ন। কি যেন বলতে চায়, কিন্তু বলে না। তাকে দেখে যেন কথা বলার শক্তিটুকু নিঃশেষ হয়ে গেছে। আবিরও কিছু বলতে চেয়েও তার বিশাল নিরবতায় হৃদয়ে বেদনা জাগিয়ে নিশ্চুপ হয়ে থাকে। একদিন বসের বাসা থেকে ফেরার পথে মেয়েটি এসে চুপিসারে একটি খাম হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে, বাসায় গিয়ে পড়বেন কিন্তু। আবির বিহ্বল চিত্তে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। হৃদয়ে তার আনন্দের একরাশ ছোঁয়া।

বাসায় এসে আবির রুমের দরজা লাগিয়ে খাম খুলে চিঠিটি পড়তে শুরু করে। ‘সাথী,  অনেকবার কথা বলার চেষ্টা করেও বলতে পারিনি। তাই দুরুদুরু কাপা বুক নিয়ে লিখছি। আমি তোমাকে ভালবাসি’। চিঠিটি পড়ে আবির আনন্দ ও প্রাণ ভরা উচ্ছ্বাসে ভেসে চলে। নিমিষেই মন থেকে সব আঁধার দূর হয়ে যায়। হৃদয় উজাড় করে সেও জানায় অফুরন্ত ভালবাসা। আবেগ আর উত্তেজনায় আবির রাতে ঘুমাতে পারে না। পরেরদিন আবির খুব ভাল কাপড় চোপড় পড়ে সেজে গুজে কলেজে গিয়ে জানতে পারে, রাত্রিতে গ্রাম থেকে এসে মেয়েটির বাবা মেয়েটিকে জোর করে নিয়ে গেছে।

বাবার ইচ্ছা অনুসারে বাড়ির সবাই মেয়েটিকে তার খালাত ভাইয়ের সাথে বিয়ে দেবেন। শুনে আবির ভীষণ ব্যাথা পায়। আবিরের জীবনে এবারও নেমে আসে আঁধারের ঘনঘটা। মেয়েটির জন্য তার হৃদয় ভেঙ্গে খান খান হয়ে যায়। বারবার সে মেয়েটির চিঠি পড়তে থাকে। এসময় তার দু’চোখ থেকে পানি গড়িয়ে  পড়ে। পরপর কয়েকটি আঘাত পাওয়ায় আবির একদম নিরব হয়ে যায়। তাকে কারো সাথে খুব একটা কথা বলতে দেখা যায় না। সব সময় নিশ্চুপ থেকে কি যেন ভাবে। আবির আর কোন মেয়েকে ভালবাসেনা। কারণ যাকেই সে ভালবেসেছে সেই তার জীবন থেকে হারিয়ে গিয়ে হৃদয়ে এনেছে অনেক আঁধার।

একদিন ঢাকা আজিমপুর থেকে শান্তিবাগে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসে দ্রুত ওঠার সময় ধাক্কা লেগে আবির দাঁড়িয়ে থাকা একজন মহিলা যাত্রীর গায়ে পড়ে এবং তাল সামলাতে না পেরে পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মেয়েটিকে অনিচ্ছাকৃতভাবে দু’হাতে জড়িয়ে ধরে। পরিস্থিতি সামলে উঠে মেয়েটির সেকি রাগ। কোন কথা না বলে সজোরে আবিরের গালে চড় মারে। ঘটনার আকর্ষ্মিকতায় এবং আচমকা চড় খেয়ে আবির হতভম্ব হয়ে কিছু বলার আগেই মেয়েটি অগ্নিমূর্তি ধারণ করে বলে, এসব অসভ্য লোকের জন্য বাসে যাওয়াই মুশকিল। এরা যে কোন অজুহাতে মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়ার সুযোগ খোঁজে। মনে হয় গালে আরেকটি চড় মারি।  ছোটলোক কোথাকার।

হঠাৎ এ ধরণের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ন¤্রস্বভাবের আবির যতই মেয়েটিকে বোঝাতে চায় ধাক্কায় পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষার জন্য এ কাজটি হয়েছে। মেয়েটি ততই ক্ষিপ্ত হয়ে আবিরকে অনর্গল বকাবকি এবং অপমান করতে থাকে। আশে পাশের মহিলা এবং পুরুষ যাত্রিরাও মেয়েটির প্রতি অকুষ্ঠ সমর্থন জানিয়ে আবিরকে দু’কথা শুনিয়ে দেয়। একজন তো বলেই বসে, মেয়ে মানুষ দেখলে মাথা ঠিক থাকে না নাকি? আবির অসহায়ভাবে উত্তপ্ত বাক্যবান হজম করে অপমানে জর্জরিত হতে থাকে। লজ্জায় তার মুখ লাল হয়ে যায়। অনেকে টিপ্পনি কাটে। কেউবা শিশ বাজিয়ে টিটকারী এবং উপহাস করে।
আবির একটি সরকারী কলেজের ইংরেজী বিষয়ের প্রভাষক। ভদ্র এবং ভাল হিসেবে বেশ পরিচিত। কিছুদিন পর পারিবারিকভাবে বিয়ের জন্য বাবা-মাকে নিয়ে একটি মেয়েকে দেখতে যায়। মেয়েটি সেজেগুজে ঘরে প্রবেশ করতেই তাকে দেখে আবির চমকে উঠে। আরে এতো বাসের সেই মেয়েটি। পড়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যাকে সে অনিচ্ছাকৃতভাবে দুহাতে জড়িয়ে ধরেছিল। যার কারণে মেয়েটি তার গালে সজোরে চপেটাঘাত করে যা ইচ্ছে তাই বলে অপমান করেছিলো। মেয়েটিও আবিরের দিকে অবাক বিষ্ময়ে তাকিয়ে থাকে। চোখে শংকা, তীব্র লজ্জা আর ক্ষমা পাওয়ার সকরুন ইচ্ছা। অনেকদিন পর আবির প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নেয়। তার হৃদয় থেকে কাল মেঘ সরে যায়। অতীতের দুঃসহ স্মৃতি আবির চিরদিনের জন্য ভুলে যেতে চায়। আধার পেরিয়ে তার চোখে এখন অফুরন্ত আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর একরাশ স্বপ্ন। এ সময় রেকর্ড প্লেয়ারে একটি গান হচ্ছিলো ……“এসো এসো আমার ঘরে এসো…..”।

লেখক: পুলিশ ও র‌্যাব কর্মকর্তা (অবঃ)
(আইজি ব্যাজ, জাতিসংঘ এবং রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত)

Print