দুর্গাপুরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন, শ্রমিক সংকটে চাষিরা

May 23, 2017 at 4:32 pm

গোলাম রসুল:
দুর্গাপুর উপজেলার এবার বোরো আবাদের বাম্পার ফলন হলেও কৃষি শ্রমিক নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ধান চাষীরা। উপজেলার বিভিন্ন মাঠে মাঠে সোনালী ধান পেকে গেছে, ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। জমি থেকে ধান কাটা, বহন করা এবং ধানগাছ থেকে ধান ঝুরানোর কাজে ব্যবহৃত শ্রমিক সংকটের কারনে চিন্তিত হয়ে পড়েছে ধান চাষীরা।

 
জানা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলায় কৃষি শ্রমিক সংকট হওয়ার কারনে ধানকাটা মৌসুম গুলোতে পাবনা থেকে কৃষি শ্রমিক আসে। পাবনা থেকে আসা কৃষি শ্রমকিদেরই উপর বেশী নির্ভর করে এ অঞ্চলের ধানচাষীরা। তবে এখন পর্যন্ত পাবনা থেকে কৃষি শ্রমিকরা এলাকায় না আসায় বেশী চিন্তিত হয়ে পড়েছেন এ চাষীরা।

 
উপজেলার আলীপুর গ্রামের ধানচাষী আফসার আলী বলেন, গত মৌসুমে পাবনা থেকে আসা কৃষি শ্রমিকরা সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাজ করে মজুরি নিতো ২৫০ টাকা। কিন্তু এবার বাইরে থেকে শ্রমিক না আসার সুযোগে স্থানীয় শ্রমিকরা শ্রমিক সংকট দেখিয়ে গত বারের তুলনায় দ্বিগুন মজুরি ছাড়া কাজে লাগছেনা। বাধ্য হয়ে বেশী পেকে যাওয়া ধান গুলি কাটতে হচ্ছে।

 
বর্তমানে ৩৫০টাকা থেকে ৪৫০টাকায় মুজুরি দিয়ে। তবে এখনোও অনেক ধানচাষিরা তাকিয়ে আছে পাবনা জেলার কৃষি শ্রমিকদের দিকে। এদিকে অন্যান্য জেলায় এই উপজেলার চেয়ে দ্বীগুন শ্রমিকের মুল্য দেওয়া স্থানীয় শ্রমিকরা চলে যাচ্ছেন অন্য জেলায়।

 
উপজেলার হোজা গ্রামের শরিফুল কৃষক ইসলাম জানান,আবহাওয়া অনূকূলে থাকায় চাষীরা চেষ্টা করছে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তাদের কষ্টার্জিত ফসল সুষ্টুভাবে ঘরে তুলতে। গতবরের চেয়ে এবারে ধনের ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। কিন্তু শ্রমিক সংকটের কারনে অনেক কৃষকরা চিন্ততি হয়ে পড়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের পরিবারের সদস্য স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ধান কাটা শুরু করেছেন।

 
দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর হতে জানা গেছে, এ বছরে দুর্গাপুর উপজেলা জোড়ে ৪হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে।

 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. বিমল কুমার প্রামানিক বলেন, এবার দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জুড়ে বোরো ধানের আবাদ অনেক ভালো হয়েছে। চাষীদের অতি কষ্টে নিয়মিত পরিচর্যার কারনে ও স্ব-স্ব ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তাদের পরামর্শ মতে কৃষকরা সঠিক সময়ে কীটনাশক, সার স্প্রেসহ পরিচর্যা করার কারনে ফলন ভালো হয়েছে।
স/শ

Print