ভুল চিকিৎসায় ঝরে যাওয়া ঢাবি মেধাবী শিক্ষার্থী চৈতীর দাফন সম্পন্ন

May 19, 2017 at 7:10 pm

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি:
চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় অকালে ঝরে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রথম বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী আফিয়া জাহান চৈতির শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের লছমানপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

জানাযায় অংশগ্রহণ করেন লাশের সাথে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মাহবুব আলম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ডাক্তার শামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, ঢাকা থেকে আসা চৈতীর ২৬ জন সহপাঠিসহ স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ।

এরআগে ভোর ৬টার দিকে চৈতীর লাশ তার গ্রামের বাড়ি লছমানপুরে আসলে এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মেয়ের লাশ দেখে অজ্ঞান হয়ে পড়েন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা চৈতীর বাবা সেফাউর রহমান।

জানা গেছে, ১৮ তারিখ বৃহস্পতিবার ঢাকার ধানমন্ডির গ্রিন রোডে অবস্থিত সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় আফিয়া জাহান চৈতির মৃত্যু হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপতালটিতে ভর্তি হলেও তাকে দেওয়া হয়েছে ক্যান্সারের চিকিৎসা। ১৮ তারিখ বৃহস্পতিবার বিকেলেই মৃত্যু হয় ওই শিক্ষার্থীর। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতের সহপাঠীরা হাসপাতালে এসে ভাঙচুর চালান।

জানা যায়, ভুল চিকিৎসায় এ মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করেছেন সেন্ট্রাল হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কনসালট্যান্ট সার্জন মতিউর রহমান।

চৈতীর আত্মীয় নাফিউল ইসলাম বলেন, গত বুধবার সকালে চৈতি ভর্তি হয় সেন্ট্রাল হাসপাতালে। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সন্ধ্যায় আমাদের জানানো হয় যে চৈতির ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়েছে। রাত ৪টার দিকে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে আইসিইউতে নেয় কর্তৃপক্ষ।

পরে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে আমাদের জানানো হয়, চৈতি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বুধবার আমাদের ছাত্রীকে বলা হয়েছিল যে তার ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে। ছাত্রীর সঙ্গে থাকা বড় বোনকে বলা হয়েছে, রোগীর ব্লাড ক্যান্সার। আপনারা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেন। অথচ বৃহস্পতিবার ১১টার পর বলেছে সে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ছিল।

ঢাবির এই অধ্যাপক আরও বলেন, যিনি এই রিপোর্ট করেছেন, তিনি সঠিক রিপোর্ট করেননি। তাদের এ ধরনের রিপোর্ট করার দক্ষতা রয়েছে কিনা, সেটা নিয়েই প্রশ্ন আছে। ওই রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য নয়, এটা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া উচিত।

যে ডাক্তার বলেছেন, ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে, তিনি যেন অন্য কোনও রোগীর মৃত্যুকে ত্বরান্বিত না করেন, এটাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের চাওয়া।

চৈতীর স্বজনরা বলছেন, দুপুরের দিকেই চৈতী ক্লিনিক্যালি ডেড থাকলেও হাসপাতাল থেকে চৈতীর মৃত্যুর খবর জানানো হয় বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে। এদিকে এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতার অভাবকে দায়ী করে গাফিলতি ও ভুল স্বীকার করেছেন সেন্ট্রাল হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কনসালট্যান্ট সার্জন মতিউর রহমান।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অভিজ্ঞতার অভাবেই এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, রোগী ভর্তির সময় তার রক্তের প্লাটিলেট কাউন্ট ছিল মাত্র ১৬ হাজার। এ অবস্থায় কোনও রোগীকে ওয়ার্ডে রাখাটা ছিল গাফিলতি।

বিনোদপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রুহুল আমিন জানান, দু’বোনের মধ্য চৈতি ছিলো ছোট, তার বড় বোন রাজশাহী কলেজের মাস্টার্সের ছাত্রী। চৈতি খুব মেধাবী ছিলো। সে বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে এসএসসি ও ২০১৬ সালে বিনোদপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে।

স/অ

Print