২০ শতাংশ ব্যান্ডউইথ যাচ্ছে পর্নোগ্রাফি দেখায়!

December 23, 2016 at 11:13 am
0
39

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

দেশে ব্যবহৃত মোট ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের ৫ ভাগের ১ ভাগ ব্যবহার হয় পর্নোগ্রাফি দেখতে। তবে ‘রাউটার টু রাউটার’ তথ্য সংগ্রহ করলে এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের সঙ্গে আলাপ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

দেশে বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে ৩৫০ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড)। এর ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হয় পর্নোগ্রাফির পেছনে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বন্ধ বা নিষিদ্ধ করে অনলাইনে পর্নোগ্রাফি দেখা থেকে কাউকে বিরত রাখা কঠিন। বরং সচেতনতা বাড়িয়ে, পারিবারিক মূল্যবোধ তৈরি করে, স্কুল কলেজে এ বিষয়ে নৈতিক শিক্ষা দিয়ে এবং এসব (পর্নোগ্রাফি) ছাড়াও যে ইন্টারনেটে আরও মজার এবং শিক্ষণীয় বিষয় আছে সেসব বিষয়ে ছোট থেকেই শিক্ষার্থীদের বোঝাতে পারলেই বরং এর ব্যবহার কমে যাবে।

প্রসঙ্গত, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিবের প্রতি ‘এক পিতার লেখা চিঠি’র সূত্র ধরে সরকার পর্নোগ্রাফি বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গত ২৮ নভেম্বর সচিবালয়ে অনলাইনে আপত্তিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক বৈঠকে পর্নো ওয়েবসাইট বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই বৈঠকে একটি কমিটিও গঠন করে দেওয়া হয়। ওই কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতেও বলা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ অগ্রসর হবে বলে জানা গেছে।

দেশ যে ৩৫০ গিগা ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হয় তার মধ্যে ২০০-২২০ গিগা আসে ৬টি আইটিসির (ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল) মাধ্যমে পার্শবর্তী দেশ ভারত থেকে। অবশিষ্ট ব্যান্ডউইথ আসে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে। বিশ্লেষকরা দেখতে পেয়েছেন, এসব ব্যান্ডউইথের ১৫-২০ শতাংশ ব্যবহার হয় পর্নোগ্রাফি দেখতে। যদিও তারা জানান, আগে এই পরিমাণটা আরও বেশি ছিল। সম্প্রতি ইন্টারনেটে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পরিমাণটাও কিছুটা কমেছে।

ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পর্নোগ্রাফি দেখার পেছনে দেশে এখন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হচ্ছে। তবে রাউটার ধরে একটা গড় করা গেলে এর পরিমাণ আরও বাড়বে।’ তিনি যোগ করেন, ‘এসব বন্ধ হয়ে গেলে যারা আশঙ্কা করছেন দেশে ডাটার (ইন্টারনেট) ব্যবহার কমে যাবে, রাজস্বে প্রভাব পড়বে- তা আসলে ঠিক নয়। এসব ব্যান্ডউইথ তখন অন্য কাজে ব্যবহার করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে অনলাইনে পর্নোগ্রাফি সীমিত করা সম্ভব। তবে তা কোন মডেল অনুসরণ করে করা হবে তা আগে পরিষ্কার হতে হবে। সংশ্লিষ্ট সাইটগুলোর ডোমেইন নেম ধরে এসব বন্ধ করা সম্ভব। কিন্তু যদি কনটেন্ট (কেবল সংশ্লিষ্ট ভিডিওচিত্র) ধরে বন্ধ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী হন তাহলে তারা পুরোপুরি সফল হতে পারবেন না।’ তিনি মনে করেন, প্রাথমিক ‍উদ্যোগ হিসেবে ৬০টি সাইট বন্ধ করতে পারলে পর্নোগ্রাফি অনেকাংশে বন্ধ করা সম্ভব হবে। কিন্তু কখনোই পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক অপারেটর্স গ্রুপ (বিডিনগ) এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সুমন আহমেদ সাবির বলেন, ‘অনলাইনে পর্নোগ্রাফি দেখার হার আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। নেটেই এখন অনেক কিছু করার রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন ধরনের অ্যাপস রয়েছে। এসবের উপস্থিতির ফলেই পর্নোগ্রাফি দেখার হারও কমেছে।’ তবে তিনি মনে করেন, পর্নোগ্রাফি বন্ধ করা সম্ভব হলে দেশে ডাটা ভোগের পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। তবে তা সামগ্রিক অগ্রগতিতে কোনও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারবে না।

সাবির বলেন, ‘বন্ধ করাটা কোনও সমাধান নয়। বরং সামাজিক মূল্যবোধ বাড়িয়ে, পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করে, সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দিয়ে, স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড বাড়িয়ে সবার মধ্যে তারুণ্যের সঞ্চার করতে পারলে এ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হতে পারে।’

সুমন আহমেদ সাবির আরও বলেন, ‘যারা এসব দেখতে চায় বা যারা এসবে আসক্ত তাদের আসলে এসব থেকে ফেরানো বড্ড কঠিন। তারা সচরাচর যেসব পদ্ধতিতে বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব দেখে তারা তখন অন্য প্রযুক্তির খোঁজ করতে থাকবে। এটা তো ঠিক যে, বিকল্প প্রযুক্তি খুঁজে পাওয়া খুব একটা কঠিন কাজ নয়। তারা ভিপিএন (ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক) ব্যবহার করতে পারে। ফ্রি না পেলে হয়তো ৩ ডলার খরচ করে ভিপিএন-এ যুক্ত হয়ে এসব দেখবে।’

ফেসবুকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে এখন লাইভ অপশন আছে, বিভিন্ন অ্যাপসে ভিডিও কল করা যায়। পর্নোগ্রাফি দেখতে সেসব অ্যাপসও ব্যবহার হতে পারে। তখন সেসব কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ফলে বন্ধ করার উদ্যোগের পাশাপাশি কেউ যেন এসবের প্রতি আগ্রহী হয়ে না সে বিষয়েও কর্মসূচি হাতে নিতে হবে।’

সূত্র : বাংলাট্রিবিউন